কেন এই সময়ের জন্য ফ্রিল্যান্সিং জরুরি

কেন এই সময়ের জন্য ফ্রিল্যান্সিং জরুরি?

ফ্রিল্যান্সিং মানে স্বাধীনভাবে কাজ করা। একটি কাজ পাওয়া এবং একটি আউটসোর্স ঠিকাদার দ্বারা অর্থ প্রদান করাকেও ফ্রিল্যান্সিং বলা হয়। সহজেই, ফ্রিল্যান্সিং এমন একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে কেউ অনলাইনে কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারে। 

আমাদের সকলেরই ছোট বয়স হতে স্বপ্ন থাকে যে আমরা অনেক বর মানুষ হব। যারা একটু মধ্যবৃত্ত অথবা নিম্নশ্রেণীর মানুষ, তাদের স্বপ্নই থাকে তাদের দারিদ্র দুর করা। আবার অনেকে পড়ালেখা করে অনেক সনদপত্র অর্জন করেন কিন্তু এর পর আর কোন চাকরি পান না। তাদের স্বপ্নতো পুরন হয়ই না, তারা বেকার বসে থাকে। 

কোন ব্যক্তি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবে?

ফ্রিল্যান্সিং এমন একটা পেশা যেখানে যেকোনো বয়সের যোগ্য মানুষ কাজ করতে পারে। এর জন্য কোন সময় সীমা নেই। একজন লোক অন্য কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকেও ফ্রিল্যান্সিং করতে পারে যার কারনে সে একটু সময় ব্যয় করার মাধ্যমে বাড়তি টাকা আয় করতে পারে। বর্তমানে যেকোনো চাকরিতে বেতনের পরিমান খুব বেশি না। পারিবারিক প্রয়োজনে অনেক কর্মীই খারাপ পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়। তারা যদি একটু সময় ব্যয় করে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে বাড়তি টাকা আয় করে তাহলে তার জন্য আর ঘুষ নেয়ার প্রয়োজন হয় না। আবার কোন ছাত্রের পারিবারিক অবস্থা যদি ভাল না থাকে, তাহলেও সে পড়ালেখার পাশাপাশি নিজের খরচটা চালাতে পারে। এভাবে একটি দেশের সহজেই মান উন্নয়ন করা যায় যেখানে দেশের প্রত্যেকটা মানুষ অর্থ উপারজনে সক্ষম।

বেকারত্ব নির্মূলের উপায় হল ফ্রিল্যান্সিং

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে অর্ধেকই প্রায় বেকার। বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট-এর ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৭% স্নাতকই বেকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ ২০১০ অনুযায়ী, বাংলাদেশের শ্রমশক্তির পরিমান ৫ কোটি ৬৭ লাখ এবং এর মধ্যে ৫ কোটি ৪১ লাখ মানুষের কাজ আছে অর্থাৎ ২৬ লাখ মানুষ বেকার। বর্তমানে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনের (আইএলও) তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি (তথ্যমতে উইকিপিডিয়া)। আর এই বেকারত্ব নির্মূলের উপায় হল ফ্রিল্যান্সিং। সরকারের পক্ষে কম সময়ে এত মানুষের জন্য কর্মক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই দেশের প্রত্যেক মানুষের নিজেদের উদ্যোগী হতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে সহজেই এই বেকারত্ব নির্মূল করা সম্ভব। 

ফ্রিল্যান্সিং করার মাধ্যমে আপনাকে কারও অধীনে কাজ করতে হয় না। আপনি আপনার মালিক। আপনি যেকোনো সময় ব্রেক নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে আপনি আপনার দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য অনেক সাইট আসে যার মাধ্যমে আয় করা যায়। যেমনঃ Fiverr, Upwork, Freelancer এর মাধ্যমে একাধিক উপায়ে আয় করা যায়। আপনি যদি চান ফ্রিল্যান্সিং শিখবেন আমি বলবো আগে একটি ভালো মানের কোর্স করে নিবেন কোন একটি প্রতিষ্ঠান হতে। ফ্রিল্যান্সিং এর কোর্স সম্পর্কে জানতে ভিজিট করতে পারেন: মানিকগঞ্জ আইটি একাডেমির ওয়েব সাইটে।

ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব দুর করা সম্ভব। এর কারনে আমাদের সরকার ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভেট বন্ধ করেছেন এবং ২% বাড়তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে মানুষ তার প্রাপ্যতার বেশি পেতে পারে এবং মানুষ তার সফলতা অর্জন করতে পারে। প্রত্যেক মানুষের তার কাজের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করা উচিত।

লেখা: নূর- এ সাদাত বিশ্বাস, সদস্য: আইটি ক্লাব

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *